জাহাজ শিল্প কেন সাইবার অপরাধীদের বিষয়বস্তু?

সম্প্রতি মাঝারি আকারের একটি জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে ছোট একটি ভাইরাস প্রবেশ করায় সাইবার অপরাধীরা। এর তদন্ত করতে গিয়ে অনুসন্ধানী সংস্থা সাইবারকিলের তদন্তে উঠে এসেছে চমকে ওঠার মতো তথ্য।
সাইবার অপরাধীরা ভাইরাস প্রবেশ করার পর প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের ই-মেইলে নজর রাখে। বিশেষ করে অর্থ বিভাগ সম্পর্কিত ই-মেইলগুলোতে। সাইবারকিল ই-মেইলগুলোর গতিবিধি পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছে, জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানের একজন জ্বালানি সরবরাহক অর্থ পরিশোধের জন্য একটি ই-মেইল পাঠান। কিন্তু ই-মেইলটি কেউ পড়ার আগেই ওই ভাইরাস মেইলের বার্তা পরিবর্তন করে দেয় এবং অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করে দেয়, যা হ্যাকারদের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর প্রতিষ্ঠানটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হ্যাকাররা হাতিয়ে নেয় কয়েক মিলিয়ন ডলার।
জাহাজ পরিবহনশিল্পে এ রকম ঘটনা এই প্রথম নয়। এ বছরের জুনে নটপেটিয়া সাইবার হামলার পর মার্স্কের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান বেশ লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল। মার্স্ক এ সপ্তাহে তাদের ক্ষতির পরিমাণের একটা ধারণা দেয়, যা প্রায় ৩০ কোটি ডলারের মতো। আর এই ক্ষতির জন্য বেশ কিছু বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।
কিন্তু হুট করে জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো কেন সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো? বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন করে। ফলে এই শিল্প খাতে অর্থ লেনদেনের হারের পরিমাণটাও বেশি। জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও প্রায় সব সময় ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে। সাইবার অপরাধীরা ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার হামলা চালিয়েই জাহাজ চলাচল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তাই এসব অপরাধী এ শিল্পে হামলা চালানোর প্রতি ঝুঁকছে।
এমন বিপদ থেকে রেহাই পেতে সাইবারকিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যানসেন মনে করেন, জাহাজ পরিবহন খাতের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত নিজেদের কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদার করা। সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ অনীহা ছিল। সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ঘটনায় চিন্তাভাবনার বেশ পরিবর্তন হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

0 Response to "জাহাজ শিল্প কেন সাইবার অপরাধীদের বিষয়বস্তু?"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন